• Saturday, 31 October 2026
Home / Detail News Copy Link
সংরক্ষিত বনে কৃষি আগ্রাসন: শ্রীমঙ্গলে ১২০০ কমলার চারা উচ্ছেদ ও বন আইন প্রয়োগের চ্যালেন্জ
দেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল জবরদখল ও সেখানে বেআইনি বাণিজ্যিক কৃষি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে বন বিভাগের কঠোর আইনি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বনভূমির অবৈধ দখলমুক্ত করতে সম্প্রতি পরিচালিত এক অভিযানে প্রায় ১,২০০টি কমলার চারা অপসারণ করেন বন কর্মকর্তারা। আইনানুগ এই পদক্ষেপের পর একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও অপপ্রচার সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌলভীবাজার ও সিলেট বনাঞ্চল সূত্রে জানা যায়, বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী চক্রের বনভূমি দখল। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছপালা কেটে সেখানে আম, মাল্টা, লেবু, কলা, আনারস ও আদার মতো অর্থকরী ফসল চাষাবাদের মাধ্যমে বনভূমির চরিত্র পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরিবেশগত এই হুমকি রোধে ও বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত ২০০০)-এর বিধান বাস্তবায়নে শ্রীমঙ্গলে সহকারী বন সংরক্ষক প্রীতম বড়ুয়ার নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল বেআইনিভাবে গড়ে তোলা ওই বাণিজ্যিক কমলার বাগান উচ্ছেদ করে বনভূমির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। আইন বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের মতে, বন আইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, সংরক্ষিত বনভূমিতে যেকোনো ধরনের অননুমোদিত প্রবেশ, অবকাঠামো নির্মাণ বা কৃষিকাজ সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। বেআইনি দখলে থাকা জমিতে কী রোপণ করা হয়েছে তা বিবেচ্য নয়, বরং বনের জমিকে তার প্রাকৃতিক রূপ ও বাস্তুসংস্থানে ফিরিয়ে রাখাই আইনের প্রধান লক্ষ্য। ক্ষেত্রবিশেষে তথাকথিত 'কৃষি উন্নয়ন' বা আবেগের অযুহাত দিয়ে জবরদখলকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে তা সারাদেশে বনভূমি দখলের প্রবণতাকে আরও উসকে দেবে। বাস্তবতা সত্ত্বেও, দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে মিডিয়া ট্রায়াল ও অপপ্রচার চালানোয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ বন কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা মাঠপর্যায়ে কর্মরত সৎ ও সাহসী কর্মকর্তাদের মনোবল ক্ষুণ্ন করে। দেশের সার্বিক বন রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে বন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনি সুরক্ষা প্রদানের পাশাপাশি তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।
Popular News
Trending News