• Saturday, 31 October 2026
Home / Detail News Copy Link
চকরিয়া সুন্দরবনের অস্তিত্ব সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ মাননীয় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রীর: হারিয়ে যাওয়া ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধারে সুদৃঢ় প্রত্যয়

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ২১,০০০ একরেরও বেশি আয়তনের ‘চকরিয়া সুন্দরবন’ আজ অস্তিত্ব সংকটে। এক সময়ের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনটি অবহেলা, অবৈধ দখল, অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি ঘের তৈরি, লবণ মাঠ নির্মাণ ও ভেড়িবাঁধের কারণে তার আসল প্রাকৃতিক রূপ সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছে। চকরিয়া সুন্দরবনের জমি ভৌগোলিক মানচিত্র থেকে মুছে না গেলেও প্রাকৃতিক ‘ম্যানগ্রোভ বন’ হিসেবে এর পরিচয় আজ প্রায় নিশ্চিহ্ন।

আজ ১০ আগস্ট ২০২৬, সোমবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে সরজমিনে চকরিয়া সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন শেষে নিজের গভীর ভাবাবেগ ও শঙ্কার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মাননীয় প্রতিমন্ত্রী।

সরজমিনে প্রতিমন্ত্রী ও টিকে থাকা একমাত্র প্রতীকী ‘সুন্দরী গাছ’

পরিদর্শনকালে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বনাঞ্চলের ধ্বংসস্তূপ ও বর্তমান রূপান্তরের চিত্র ঘুরে দেখেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ধ্বংসপ্রাপ্ত বনের পাশেই একা দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী জীবিত সুন্দরী গাছ— যা নিয়ে ইতিপূর্বে জাতীয় পত্রিকায় অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে থাকা এই একক সুন্দরী গাছটির ছবি আজ সরজমিনে নিজেই তুলেন প্রতিমন্ত্রী, যা চকরিয়া সুন্দরবনের অতীত ঐতিহ্য ও হারিয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক সম্পদের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিব্যক্তে চকরিয়া সুন্দরবন পুনরুদ্ধারের প্রধান অন্তরায়গুলোকে চিহ্নিত করে বলেন, "চকরিয়া সুন্দরবনকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অতীতে দেওয়া অনিয়ন্ত্রিত জমি ইজারা, প্রভাবশালী চক্রের স্বার্থান্বেষী অর্থনৈতিক সুবিধা এবং দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব।"

ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

সরজমিন পরিদর্শন শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করতে চকরিয়া সুন্দরবনের মতো প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের পুনর্বাসন অপরিহার্য।

ইজারা দেওয়া জমিগুলোর আইনি পর্যালোচনা, অবৈধ জবরদখল ও ঘের উচ্ছেদ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুনর্বনায়ন কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে চকরিয়া সুন্দরবনের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

Popular News
Trending News