• Friday, 23 October 2026
Home / Detail News Copy Link
মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে ৪.৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ: পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীর স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত বনের পেটের ভেতর দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল এক পাকা সড়ক। সংরক্ষিত বনাঞ্চল কেটে ও পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে এই ধরনের স্থায়ী সড়ক নির্মাণের ফলে দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং পাহাড়ের স্থায়িত্ব চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষিত বনভূমিতে পিচঢালা সড়ক নির্মাণ পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রচলিত আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সুরক্ষিত বনাঞ্চলে পাকা রাস্তার ক্ষতিকর প্রভাব

মহেশখালীর পাহাড়ি বনাঞ্চলটি এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকা সড়কটি নির্মিত হলে এই বনাঞ্চল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উদ্বেগের প্রধান প্রধান কারণসমূহ:

বনখণ্ডন (Forest Fragmentation): বনের মাঝখান দিয়ে সড়ক নির্মাণের ফলে বনটি বিচ্ছিন্ন দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। এতে হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের মুক্ত বিচরণ ও পথ অতিক্রম (Corridor) মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

বন্যপ্রাণীর প্রাণহানির ঝুঁকি: দ্রুতগামী যানবাহনের চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় বিরল প্রজাতির প্রাণী ও পাখির মৃত্যুর ঘটনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

পাহাড় কাটা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ: রাস্তা তৈরিকে কেন্দ্র করে সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ ভূমি দখল, গাছ কাটা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট নির্মাণের প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

আইনি জটিলতা ও পরিবেশবাদীদের দাবি

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, যেকোনো সংরক্ষিত বা স্পর্শকাতর বনাঞ্চলের ভেতর প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো স্থায়ী ইট-পাথরের কাঠামো বা পাকা রাস্তা তৈরি নিষিদ্ধ।

সংরক্ষিত বনের সুরক্ষায় অবিলম্বে এই সড়ক নির্মাণ কাজ স্থগিত রেখে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (EIA) এবং বিকল্প রুট বা পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণের জন্য বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন সুশীল সমাজ ও পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা।

Popular News
Trending News