• Tuesday, 13 October 2026
Home / Detail News Copy Link
রোমে এফএও সম্মেলনে পরিবেশ মন্ত্রী: 'ওয়ান হেলথ' দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা অসম্ভব

পরিবেশ, প্রাণী ও মানব স্বাস্থ্যকে বিচ্ছিন্ন বা পৃথক কোনো সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে বিশ্বমঞ্চে সমন্বিত 'ওয়ান হেলথ' (One Health) দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, এমপি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে একত্রে বিবেচনা করেই বিশ্বজুড়ে সার্বিক টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিতে হবে।

আজ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সোমবার) ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর সদর দপ্তরে শুরু হওয়া ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী (২১-২৩ সেপ্টেম্বর) বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি এসব কথা বলেন।

গঙ্গা বদ্বীপে পরিবেশগত ঝুঁকি ও বাংলাদেশের অবস্থান

উদ্বোধনী বক্তব্যে পরিবেশ মন্ত্রী ঘনবসতিপূর্ণ ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকির চিত্র বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন।

বক্তব্যের মূল দিকসমূহ:

পরস্পর-সংযুক্ত প্রতিবেশের প্রভাব: মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও পরিবেশ বিপর্যয়ের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। একই ভূদৃশ্যে মানুষ, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকায় একটি খাতে সামান্য নেতিবাচক চাপ পড়লে তা দ্রুত অন্য খাতগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

দুই দশকের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা: গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশ 'ওয়ান হেলথ' ধারণাকে কেবল তত্ত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে শাসনব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। জাতীয় কাঠামোয় পরিবেশ খাতকে মূল অংশীজন হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য।

প্রান্তিক সক্ষমতা ও তথ্য কেন্দ্র: সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক তথ্য বিনিময়, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জেলা ও প্রান্তিক পর্যয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রস্তাবিত 'ওয়ান হেলথ তথ্যকেন্দ্র' কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

কপ-৩১ এ প্রতিফলনের তাগিদ: আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১ (COP 31) সম্মেলনের আগে রোমের এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। রোম সম্মেলনের অভিজ্ঞতাকে কপ-৩১-এর টেবিলে তুলে ধরে সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন আদায়ে বাংলাদেশ সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।

বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি

সম্মেলনের মর্যাদাপূর্ণ উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশ্বনেতা ও শীর্ষ কূটনীতিবিদদের এক বিশাল সমাগম ঘটে।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক উপস্থিতির রূপরেখা:

সম্মেলনের নেতৃত্ব: সেশনে উপস্থিত ছিলেন এফএও (FAO)-এর মহাপরিচালক ডংইউ কু (Dongyu QU)।

রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানগণ: সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন (Guy Parmelin), তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মউইগুলু এনচেম্বা (Dr Mwigulu Nchemba) এবং সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী দ্যুরো মাকুত (Duro Macut)।

অন্যান্য দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধি: আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, মোজাম্বিক ও কেপ ভার্দেসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কৃষিমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং পরিবেশবিদগণ এতে অংশগ্রহণ করেন।

Popular News
Trending News