• Friday, 23 October 2026
Home / Detail News Copy Link
বুড়িগঙ্গায় অস্বচ্ছতা কমলেও ডাইং বর্জ্যে চরম দূষণ

সম্প্রতি টানা বর্ষণের ফলে বুড়িগঙ্গা নদীর ঘোলা পানির অস্বচ্ছতা কিছুটা হ্রাস পেলেও শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমেনি। পুরান ঢাকার শ্যামপুর সংলগ্ন বুড়িগঙ্গার তীরে ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানার অপরিশোধিত বিষাক্ত কেমিক্যাল ও বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা নদীর সার্বিক বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে রাজধানীর শ্যামপুর সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদী তীরবর্তী এলাকায়।

শিল্প-দূষণ রোধে জরিপ ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহায়তা

বুড়িগঙ্গার বুক থেকে অনবরত শিল্প-দূষণ কমানো এবং কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর বিশেষ জরিপ ও নজরদারি অভিযান শুরু করেছে।

পরিস্থিতি ও যৌথ কার্যক্রমের বিবরণ:

অবৈধ বর্জ্য নিঃসরণ: শ্যামপুর এলাকার একাধিক ডাইং কারখানা থেকে কোনো প্রকার শোধন (ETP) ছাড়াই কালচে, বিষাক্ত ও রাসায়নিক মিশ্রিত পানি সরাসরি পাইপের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গায় ফেলা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভলান্টারি সাহায্য: বুড়িগঙ্গার পানির গুণগত মান, শিল্প-দূষণের মাত্রা ও বর্জ্যের প্রভাব নির্ধারণে পরিবেশ অধিদপ্তরকে গুরুত্বপূর্ণ জরিপকার্যে স্বেচ্ছাসেবী (Voluntary) সহায়তা প্রদান করছে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ।

বর্জ্য শোধনাগার (ETP) তদারকি: পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে যেসব ডাইং কারখানা ইটিপি ব্যবহার না করে সরাসরি নদীতে কেমিক্যালযুক্ত বর্জ্য ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুড়িগঙ্গার অস্তিত্ব সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের দাবি

টানা বৃষ্টিতে সাময়িকভাবে নদীর পানি কিছুটা পরিষ্কার দেখা গেলেও বর্জ্যের অবিরামপ্রবাহ পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) কমিয়ে ফেলছে। শ্যামপুরসহ নদী তীরবর্তী সকল কারখানায় শতভাগ ইটিপি নিশ্চিত করা না গেলে বুড়িগঙ্গাকে বিষমুক্ত করা সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেছেন নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। (ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ)

Popular News
Trending News