• Tuesday, 15 September 2026
Home / Detail News Copy Link
কৃষি অধিদপ্তরের ২৫ লাখ চারা রোপণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম: নিম্নমানের চারা-উপকরণ ও বাজেট অপচয়ের অভিযোগে তোলপাড়

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) আওতাধীন কৃষি প্রণোদনা সহায়তার ২৫ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সারাদেশে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের চারা ও চারা সুরক্ষা উপকরণ (খুঁটি ও গোবর) বিতরণে নয়ছয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরবরাহকৃত মানহীন উপকরণ গ্রহণে স্থানীয়দের অস্বীকৃতি এবং অনিয়ম ঢাকতে প্রকল্পের শেষ দিনে সরকারি আদেশ সংশোধনের ঘটনায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মোট ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এই প্রকল্পে মাঠপর্যায় থেকে আসা একের পর এক অভিযোগের মুখে ইতিমধ্যে ৫ জন কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি ও একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

চারা ও সুরক্ষাসামগ্রী বাজেটের চিত্র

কর্মসূচিতে ১৬ লাখ ২৮ হাজার চারা কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট চারা কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য প্রকল্প থেকে সরবরাহ করা হয়। চারা ও সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ ছিল:

চারার মূল্য: প্রজাতিভেদে ৩০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা।

বাঁশের খুঁটি: চারা প্রতি ৫০ টাকা।

শুকনো গোবর (প্রাথমিক বরাদ্দ): চারা প্রতি ৩০ কেজি (কেজিপ্রতি ৪ টাকা হিসেবে ১২০ টাকা)।

মাঠপর্যায়ে কৃষি অধিদপ্তরের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা

বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রকল্পের অনিয়মের মূল চিত্রসমূহ:

খুঁটি ও সুরক্ষার অভাব: বাতাস বা পশু থেকে রক্ষায় পূর্বের ন্যায় বাঁশের বেড়া না দিয়ে কেবল একটি করে অপরিপক্ব খুঁটি দেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা, ভোলা ও জীবননগরে নিম্নমানের খুঁটি ও চারা দেখে কৃষকরা তা না নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে ফেলে রেখে যান। আলমডাঙ্গায় নিম্নমানের ৮০০ চারা ফেরত পাঠানো হয়।

বিতরণে বাদ সার ও সুরক্ষা উপকরণ: কুষ্টিয়ায় 'ক্লিন কুষ্টিয়া ও গ্রিন কুষ্টিয়া' সংগঠনকে ৬০০ চারা দেওয়া হলেও রোপণের সার ও খুঁটির কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে জানান সংগঠনের পরিচালক।

ক্ষুদ্র ও মৃত চারা সরবরাহ: নওগাঁর রাণীনগরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিতরণ করা নিম ও জাম চারা মাত্র ১ থেকে দেড় ফুট লম্বা ছিল, যার বড় অংশই রোপণের পর মারা গেছে। বরগুনা, যশোর, পাবনা ও সাতক্ষীরা থেকেও একই অভিযোগ এসেছে।

গোবর বরাদ্দ ও শেষ মুহূর্তের প্রজ্ঞাপন বিতর্ক

প্রকল্প চালুর পর প্রতি চারার জন্য ৩০ কেজি (১২০ টাকা) শুকনো গোবর সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এত গোবর সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়।

কর্মসূচির শেষ দিন (৩০ জুন) তড়িঘড়ি করে নির্দেশ সংশোধন করে ৩০ কেজির স্থলে মাত্র ৫ কেজি (২০ টাকা) গোবর নির্ধারণ করে বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। শেষ দিনে এসে আদেশ বদল করায় নোয়াখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা এখন বড় ধরনের নিরীক্ষা আপত্তির (Audit Objection) ঝুঁকিতে পড়েছেন।

তদন্ত কমিটি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

চুয়াডাঙ্গায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার জানান, বিতর্কিত এলাকাগুলোতে নতুন চারা ও উপকরণ পুনরায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম জানান, অভিযোগ পাওয়া স্থানগুলোতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

ছবি: এআই দ্বারা তৈরিকৃত।

Popular News
Trending News