• Tuesday, 15 September 2026
Home / Detail News Copy Link
মৌলভীবাজারে দখলমুক্ত ৫ একর বনভূমিতে বনায়ন: কমলা বাগানের জায়গায় রোপণ করা হলো দেশীয় চারা

একসময় যেখানে দখলদারদের থাবায় গড়ে তোলা হয়েছিল অবৈধ কমলার বাগান, সেখানে এখন মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে সারি সারি দেশীয় বৃক্ষের চারা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ভূ-দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা বনভূমিতে নিবিড় বনায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতির ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার বড় উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।

কমলগঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জি এলাকায় অবৈধ দখল থেকে পুনরুদ্ধার করা প্রায় পাঁচ একর সংরক্ষিত বনভূমিতে রোপণ করা হয়েছে দেশীয় প্রজাতির প্রায় আড়াই হাজার চারাগাছ।

কমলা বাগান উচ্ছেদ ও পুনঃবনায়ন কর্মসূচি

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কালিঞ্জি এলাকার প্রায় ৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি বেআইনিভাবে দখল করে বাণিজ্যিক কমলার বাগান তৈরি করেছিল একটি দখলদার চক্র। পরবর্তীতে সিলেট বন বিভাগের বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে ওই অবৈধ সম্পত্তি দখলমুক্ত করা হয়।

বনায়ন ও বনাঞ্চল সুরক্ষার মূল কৌশলসমূহ:

দেশীয় চারার প্রাধান্য: উদ্ধার করা জমি পতিত ফেলে না রেখে তা যেন পুনরায় দখলের কবলে না পড়ে, সেজন্য পরিকল্পিতভাবে বহুগুণে টেকসই দেশীয় বনজ, ফলদ ও ঔষধি প্রজাতি নির্বাচন করে প্রায় ২,৫০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে।

দখল প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি: পুনর্দখল রোধে এলাকাটিকে নিয়মিত টহল ও মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে, যেন স্বাভাবিক বনজ পরিবেশ দ্রুত ফিরে আসতে পারে।

জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে দৃষ্টান্ত

সিলেট বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বনের জমি কেবল জবরদখলমুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; উদ্ধারকৃত জমিতে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য। কমলগঞ্জের কালিঞ্জির এই সফল দৃষ্টান্ত সিলেটের অন্যান্য বনাঞ্চলে দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় গতি আনবে।

পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী প্রেমীরা বন বিভাগের এই দূরদর্শী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও পাখির নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ও খাদ্যসংস্থান নতুন রূপ পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

Popular News
Trending News