• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে প্রথমবারের মতো ক্যামেরা ট্র্যাপে মেঘলা চিতা

কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনে প্রথমবারের মতো দেশের অন্যতম বিরল ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী ‘মেঘলা চিতা’ (Clouded Leopard)-র উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা। বন বিভাগের উদ্যোগে ট্র্যাপড ক্যামেরায় বন্দি হওয়া এই মেঘলা চিতার ছবি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে।

চলতি মাসের শুরুতে খ্যাতনামা বিজ্ঞান সাময়িকী ‘গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন’-এ গবেষণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা মেঘলা চিতা ও বাস্তুতন্ত্রের বার্তা

আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের গহীন বনে আকস্মিকভাবে মেঘলা চিতার দেখা মিললেও কক্সবাজারের বনাঞ্চলে এর উপস্থিতি বিরল। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN)-এর লাল তালিকায় মেঘলা চিতাকে ‘মহাবিপন্ন’ (Critically Endangered) হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রজাতিটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

গবেষণাপত্রের উল্লেখযোগ্য তথ্যসমূহ:

উপযোগী আবাসন: ইনানী জাতীয় উদ্যানের মোট ৭ হাজার হেক্টরের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর বনাঞ্চলকে (যা উদ্যানের মোট আয়তনের প্রায় ৪৪ শতাংশ) মেঘলা চিতার বসবাসের জন্য উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রের প্রমাণ: বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘলা চিতার উপস্থিতি প্রমাণ করে ইনানী জাতীয় উদ্যানের বিশাল এলাকা জুড়ে এখনো একটি সমৃদ্ধ ও ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র টিকে রয়েছে। মূলত বড় গাছের সাথে ঘন ঝোপঝাড় রয়েছে এমন গভীর বনেই এদের বিচরণ বেশি দেখা গেছে।

সংরক্ষণাগার: উল্লেখ্য, এর আগে পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত একটি মেঘলা চিতাকে কক্সবাজারের চকরিয়াস্থ ডুলহাজারা সাফারি পার্কে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

ইনানী জাতীয় উদ্যান সুরক্ষায় নতুন তাগিদ

কক্সবাজার অঞ্চলের এক সময়ের সমৃদ্ধ বনাঞ্চল বিভিন্ন সময় মানবসৃষ্ট হুমকি ও দখলের মুখে পড়লেও মেঘলা চিতার মতো বিরল মাংসাশী প্রাণীর উপস্থিতি প্রকাশ করে যে, সামান্যতম সুরক্ষা পেলেও প্রকৃতি স্বধামে ফিরে আসে।

ইনানী জাতীয় উদ্যানের অবশিষ্ট ৪৪% উপযুক্ত আবাসনকে মানব উপদ্রব, দখল ও অবৈধ শিকার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখে কঠোর সুরক্ষার আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন বন্যপ্রাণী ও পরিবেশবিদরা

Popular News
Trending News