• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
মধুপুরে গারো সম্প্রদায়ের ২৪ হেক্টর জমি উদ্ধার করে ৬০ হাজার চারা রোপণ: বনায়ন পরিদর্শনে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মধুপুর জাতীয় উদ্যানে জবরদখল হওয়া বনভূমি উদ্ধার এবং পরিবেশবান্ধব সামাজিক বনায়নের এক নতুন দৃষ্টান্ত সূচিত হয়েছে। গারো সম্প্রদায়ের দখলে থাকা ২৪ হেক্টর জমি উদ্ধার করে সেখানে ফলদ ও দেশীয় প্রজাতির ৬০ হাজার চারা রোপণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি।

গতকাল ২৯ আগস্ট ২০২৬ (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৫টায় টাঙ্গাইল বন বিভাগের অধীন মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের বেরীবাইদ বিটে এই চমৎকার বনায়ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।

স্থানীয়দের সাথে সমন্বয় ও বাস্তুতান্ত্রিক পুনর্বাসন

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী মধুপুরের বিরল জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বনাঞ্চল ফিরিয়ে আনার উদ্যোগগুলো প্রত্যক্ষ করেন:

৬০ হাজার চারা রোপণ: উদ্ধারকৃত ২৪ হেক্টর বনে পরিবেশ উপযোগী ও দেশীয় প্রজাতির চারা—যেমন গামার, চিকরাশি, শাল এবং গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৬০,০০০ চারা রোপণ করা হয়েছে।

সহাবস্থান ও মানবিক রূপরেখা: বনায়ন কর্মসূচির পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গারো সম্প্রদায়ের সাথে সুষম সমন্বয় করা হয়েছে। গারোদের পূর্বে লাগানো পেঁপে ও আনারস গাছগুলো তারা আগামী ১ বছর পর্যন্ত ভোগ করতে পারবেন। তবে চুক্তি অনুযায়ী তারা নতুন করে এসবের চাষ আর করবেন না।

বন্যপ্রাণীর খাদ্যের সুরক্ষা: উদ্যানের বানরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর খাদ্যের অভাব মেটাতে প্রতিমন্ত্রী স্বহস্তে একটি ডেউয়া গাছের চারা রোপণ করেন।

স্থানীয় ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য দৃষ্টান্ত

মধুপুরের বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারে এই উদ্যোগকে একটি অত্যন্ত সুষম মডেল হিসেবে দেখছেন পরিবেশবিদরা। বন ও বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা করায় এটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পরিদর্শনকালে প্রধান বন সংরক্ষক, বন সংরক্ষক, কেন্দ্রীয় অঞ্চল ও বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা এবং বন সুরক্ষায় নিয়োজিত স্থানীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular News
Trending News