• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ২০২৬: ৫ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্য নিয়ে সবুজ অর্থনীতি গড়ার ডাক প্রধা
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই দর্শনকে সামনে রেখে একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। জাতীয় 'বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬' উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এবারের অভিযানের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’; যা বর্তমান সরকারের পরিবেশবান্ধব জাতীয় অঙ্গীকারেরই অনন্য প্রতিফলন। বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে বৃক্ষরোপণ এখন জাতীয় আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই বাস্তবতাকে বিবেচনা করে বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক যুগান্তকারী ও দূরদর্শী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এটি কেবল কোনো প্রথাগত সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং এটিকে একটি স্বতঃস্ফূর্ত জাতীয় আন্দোলনে রূপ দেওয়া হচ্ছে। সর্বত্র বনায়ন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা সবুজায়নের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেলপথের দুই পাশ, বাঁধ, সরকারি বনভূমি, উপকূলীয় চরাঞ্চল, নগর এলাকা এবং বসতবাড়িসহ দেশের সর্বত্র সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে নগর বনায়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং বিনামূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও সবুজ বন পরস্পর ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত। একটি গতিশীল ও সম্ভাবনাময় ‘সবুজ অর্থনীতি’ গড়ে তুলতে বন ও বৃক্ষরোপণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান দেশকে সবুজে আচ্ছাদিত করার লক্ষ্যে বাড়ির আনাচে-কানাচে, পতিত ও প্রান্তিক জমিতে, খাল ও নদীর পাড়ে, বাঁধে, সড়ক ও সড়কদ্বীপে, বাড়ির ছাদে এবং শহর-বন্দর নির্বিশেষে উপযুক্ত প্রতিটি স্থানে ব্যাপক বনায়ন কার্যক্রমে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন সরকারপ্রধান। উল্লেখ্য, দেশবাসীকে গাছ লাগাতে আরও উৎসাহিত করতে এ বছরও জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই মেলা থেকে সাধারণ মানুষ উন্নত জাতের চারা সংগ্রহের সুযোগ পাবে এবং শিক্ষার্থীরা উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী 'বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার, ২০২৫', 'বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার, ২০২৬' এবং সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ অর্জনকারীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রত্যেকে অন্তত একটি করে বৃক্ষরোপণ ও তার যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় 'বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬' এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।
Popular News
Trending News