• Tuesday, 15 September 2026
Home / Detail News Copy Link
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে বর্জ্যের ডাম্পিং স্টেশন: হুমকির মুখে শালবনের পরিবেশ ও সংরক্ষিত জীববৈচিত্র্য
গাজীপুরের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও মধ্যঞ্চলের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী ‘ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান’ সংলগ্ন এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ফেলার ফলে ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হচ্ছে উদ্যানের সীমানা। জাতীয় উদ্যানের মতো সংবেদনশীল ও সংরক্ষিত বনভূমির সন্নিকটে অপরিকল্পিতভাবে কঠিন ও বাসাবাড়ির বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বনাঞ্চলের উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী ও সার্বিক ইকোসিস্টেম। স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত টনের পর টন আবর্জনা প্রতিদিন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সীমানা ঘেঁষে ফেলা হচ্ছে। পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (EIA) কিংবা কোনো নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বর্জ্য ফেলার কারণে ইতোমধ্যে বনের বিশাল অংশজুড়ে উৎকট গন্ধ ও বিষাক্ত রাসায়নিক তরল (লিচেট) ছড়িয়ে পড়েছে। উন্মুক্ত এই ডাম্পিং স্থান থেকে সৃষ্টি হওয়া দূষিত তরল বৃষ্টিপাতের সাথে মিশে বনের ভেতরের প্রাকৃতিক ছড়া, খাল ও ভূগর্ভস্থ জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে, যা চরম পানির দূষণ ঘটাচ্ছে। উদ্যানে বসবাসকারী প্রজাতিগুলোর ওপর এর প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গাজীপুরের এই শালবনের প্রাকৃতিক আবাসে বানর, মায়া হরিণ, মেছো বিড়াল, বনরুই, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও প্রচুর দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির বিচরণ রয়েছে। বর্জ্যের সাথে মিশে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন ও ক্ষতিকর পচা খাবার খেয়ে বন্যপ্রাণীরা মারাত্মক শারীরিক জটিলতায় ভুগছে এবং বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও অপচ্য পদার্থ বনের মাটিতে জমে স্বাভাবিক উদ্ভিদের নতুন চারা গজানোর ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী যেকোনো জাতীয় উদ্যান বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের মধ্যে যেকোনো ধরনের কঠিন বর্জ্য ফেলা, শিল্পকারখানা স্থাপন বা দূষণ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মতো একটি গেজেটভুক্ত বনাঞ্চলের পাশে উন্মুক্ত ময়লার ভাগাড় তৈরি করা সরাসরি রাষ্ট্রীয় পরিবেশ আইনের পরিপন্থী। বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-সহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন এই ক্ষতিকর তৎপরতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। অবিলম্বে এই স্থান থেকে ময়লার ডাম্পিং স্টেশন অনত্র নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব স্থানে স্থানান্তর, সীমানা প্রাচীর নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পৌর ও জেলা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। তা না হলে দেশের মধ্যঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাকারী বনটি চিরতরে তার অস্তিত্ব হারাতে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
Popular News
Trending News