• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ ও মিডিয়া ট্রায়াল: শ্রীমঙ্গলের এসিএফ প্রীতম বড়ুয়ার পাশে বনের সৎ ও সাহসী কর্মকর্তারা
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারে গিয়ে প্রভাবশালী জবরদখলকারীদের স্বার্থে আঘাত হানায় সম্প্রতি বাংলাদেশ বন বিভাগের ৪১তম বিসিএস (বন) ক্যাডারের নবীন ও সৎ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়ার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও মিডিয়া ট্রায়ালের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বনভূমি দখলমুক্ত করার অভিযানকে বিতর্কিত করতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মিথ্যা চাঁদাবাজির কাল্পনিক দাবি তুললেও, তাদের তথ্যের মারাত্মক অসঙ্গতি ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে বলে মনে করছেন আইন ও বন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বনের জমি জবরদখলমুক্ত করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের একজন বন কর্মকর্তা প্রীতমের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা এবং অপরজন ১০ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ তোলেন। আইন বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, আইনের মৌলিক নীতি (Basic Principles of Evidence) অনুযায়ী একই ঘটনায় বাদীদের এই বিপরীতমুখী ও পরস্পরবিরোধী স্টেটমেন্টই প্রমাণ করে যে অভিযোগটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অপপ্রচারের অংশ। বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও প্রীতম বড়ুয়ার সহকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি প্রশাসনিক পদে যোগদানের পর থেকেই রাষ্ট্রের রাজস্ব রক্ষা ও বনভূমি সুরক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছেন। ইতিপূর্বে তার নিজ কর্মক্ষেত্রাধীন এলাকার একটি প্রভাবশালী চা বাগান কর্তৃক সরকারকে বড় অংকের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বেআইনিভাবে গাছ কর্তন ও পরিবহনের বিষয়ে গোপন সংবাদ পান তিনি। উর্ধ্বতন প্রশাসনিক মহলের চাপ ও নানা প্রলোভন উপেক্ষা করে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে মাঠে নেমে তিনি তদন্ত পরিচালনা করেন। অবশেষে সব বাধা অতিক্রম করে রাষ্ট্রের অনুকূলে ৯ লাখ ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা (৯,০৪,৩৭৬/-) রাজস্ব আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করেন। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মতে, যে কর্মকর্তা লাখ লাখ টাকার প্রলোভন ও প্রভাবশালী মহলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাষ্ট্রের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করেন, তাকে টাকা দিয়ে কেনা বা দমানো অসম্ভব। কিন্তু বনদস্যু ও প্রভাবশালী চক্র একত্রিত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও নির্দিষ্ট কিছু মাধ্যমে সংঘবদ্ধ মিডিয়া ট্রায়াল চালিয়ে সৎ কর্মকর্তার মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ অধিকারকর্মীরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় বনভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রভাবশালীদের চেয়ে সত্য ও সততার শক্তি অনেক বেশি। দিনশেষে বনাঞ্চল ও সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় আইনের জয় হবে এবং এই ধরনের সৎ, মেধাবী ও সাহসী কর্মকর্তাদের সুরক্ষায় পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও সরকারের কঠোর ভূমিকা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
Popular News
Trending News