• Tuesday, 15 September 2026
Home / Detail News Copy Link
কমলা গাছ কাটা নাকি রাষ্ট্রীয় জমি উদ্ধার? কমলগঞ্জের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে 'বিএফএ'-এর কড়া প্রতিবাদলিপি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর সংরক্ষিত বনভূমিতে বন বিভাগের আইনানুগ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে অব্যাহত অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একপাক্ষিক 'মিডিয়া ট্রায়াল'-এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রেরিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংগঠনটি আবেগনির্ভর প্রচারণার বদলে 'বন আইন, ১৯২৭' ও আইনের শাসনকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অবৈধ দখলকে ‘অর্জিত অধিকার’ বানানোর সুযোগ নেই বিএফএ তাদের প্রতিবাদলিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বিটে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ আইনসম্মত। সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন বন বিভাগ অন্যায়ভাবে স্থানীয়দের ফলন্ত বাগান ধ্বংস করেছে। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়— "সংরক্ষিত বনভূমি রাষ্ট্রের একচ্ছত্র সম্পত্তি। 'বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭' অনুযায়ী বনাঞ্চলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অবৈধ দখল, বাণিজ্যিক চাষাবাদ বা স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় বনভূমি দখল করে কমলার বাগান করা হলেও, সেই অবৈধ স্থাপনা কখনোই 'অর্জিত অধিকার' হতে পারে না।" সংগঠনটির মতে, আসল অপরাধ—অর্থাৎ রাষ্ট্রের বনভূমি জবরদখল—সেটিকে আড়াল করতেই ফলন্ত গাছ কাটার আবেগঘন ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তদন্ত চলাকালীন অপপ্রচার ও চরিত্রহননের নিন্দা আদমপুরের ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে সরকার ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মিথ্যা অভিযোগ এনে তাঁদের চরিত্রহনন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএফএ। প্রতিবাদলিপিতে বিএফএ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে— অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তির দাবি: তদন্তে যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির সত্যতা মেলে, তবে বিএফএ তাঁদের পক্ষে দাঁড়াবে না, বরং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করবে। দায়িত্ব পালনকারীদের সুরক্ষার দাবি: কিন্তু তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কর্মকর্তারা কেবল সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে অসত্য তথ্য ছড়িয়ে কর্মকর্তাদের হেয় প্রতিপন্ন করা ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোবল ভাঙার শঙ্কা প্রতিবাদলিপিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বনভূমি উদ্ধার করতে গেলেই কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ, হেনস্তা এবং মিথ্যা মামলার মুখোমুখি করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এভাবে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় একপাক্ষিকভাবে কর্মকর্তাদের ভিলেন বানানোর সংস্কৃতি চলতে থাকলে মাঠপর্যায়ে কর্মরতরা ভবিষ্যতে বনাঞ্চল রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে নিরুৎসাহিত হবেন। আর এর সরাসরি সুযোগ নেবে আঞ্চলিক ভূমিগ্রাসী ও পাচারকারী চক্র। বিএফএ-এর আকুল আহ্বান: আবেগ নয়, প্রাধান্য পাক আইনের শাসন বিএফএ দেশের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে— "আবেগ নয়, আইনের শাসন ও সত্যকে প্রাধান্য দিন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পূর্বনির্ধারিত রায় দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বন রক্ষা কেবল কোনো একক বিভাগের কাজ নয়, এটি জাতীয় স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন।" বিএফএ পুনর্ব্যক্ত করেছে, রাষ্ট্রের বনাঞ্চল দখল বা ধ্বংসকে কোনো অজুহাতেই বৈধতা দেওয়া যাবে না এবং দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নীরব রাখার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার থাকবে।
Popular News
Trending News