• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
কমলা গাছ কর্তন ও আদমপুর অভিযান: 'আইএফবি'-র প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর বিটে সম্প্রতি পরিচালনা করা বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১,২০০টি ফলন্ত কমলা গাছ কর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষিতে নিজেদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে পেশাজীবী সংগঠন ইনস্টিটিউশন অফ ফরেস্টার্স বাংলাদেশ (আইএফবি)। ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংগঠনের সভাপতি ড. এ. জেড. এম. মঞ্জুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংবাদমাধ্যমের 'পূর্ব-সিদ্ধান্তমূলক' প্রতিবেদনের পরিবর্তে চলমান উচ্চপর্যায়ের তদন্তের ওপর আস্থা রাখার জোর আহ্বান জানানো হয়। বিভাগীয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের তদন্তই একমাত্র বৈধ পথ আইএফবি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সিলেট বিভাগীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করছে। বিজ্ঞপ্তিতে আইএফবি সুস্পষ্ট মতামত প্রকাশ করে জানায়— "আইএফবি মনে করে, এই তদন্তকেই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের একমাত্র বৈধ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।" অননুমোদিত চাষাবাদ অপসারণ ও বিধিবদ্ধ পদ্ধতির আবশ্যকতা বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত এবং তা প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বন আইন ও সংরক্ষিত বনের বিধিমালা অনুযায়ী অনুমতিহীন বাণিজ্যিক চাষাবাদ বা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা বন বিভাগের নিয়মিত আইনি দায়িত্বের অংশ। ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া বন ও বনজসম্পদ রক্ষায় এই মৌলিক নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ তা ভবিষ্যতে বনভূমি রক্ষার সব প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেবে। তবে এর পাশাপাশি আইএফবি একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিগত অবস্থানও তুলে ধরেছে। তারা স্পষ্ট করে জানায়— যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ: বন আইনের প্রয়োগ সর্বদা যথাযথ প্রক্রিয়া ও বিধিবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করেই হওয়া উচিত। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি: এই সুনির্দিষ্ট উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, কিংবা উত্থাপিত দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—তা নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসা উচিত, কোনো ধরনের মিডিয়া ট্রায়াল বা গণমাধ্যমের পূর্ব-সিদ্ধান্তমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নয়। আগাম মিডিয়া ট্রায়ালে বনকর্মীদের মনোবল ভাঙার আশঙ্কা বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করা হয় যে, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই কোনো পক্ষকে ‘দোষী’ বা ‘নির্দোষ’ ঘোষণা করার প্রবণতা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কার্যালয়ের জন্যই ক্ষতিকারক নয়, বরং সারা দেশে মাঠে নেমে বন সংরক্ষণে নিয়োজিত থাকা কর্মকর্তাদের মনোবলের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘমেয়াদে বনভূমি সুরক্ষার সামগ্রিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযত ও দায়িত্বশীল অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে আইএফবি। স্বচ্ছতা ও বিচার নিশ্চিতের প্রত্যাশা আইএফবি আশা প্রকাশ করে যে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার ভিত্তিতে স্বচ্ছতার সাথে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: অনিয়ম প্রমাণিত হলে: যদি তদন্তে কোনো অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইনসম্মত দায়িত্ব পালনের প্রমাণ মিললে: যদি প্রমাণিত হয় যে কর্মকর্তারা বিধি সম্মতভাবেই দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষে স্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসম্মুখে উপস্থাপন করতে হবে। একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের মধ্য দিয়েই বন বিভাগের প্রতি জনআস্থা এবং বনভূমি সুরক্ষার প্রতি অঙ্গীকার—দুটোই সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করে সংস্থাটি। ড. এ. জেড. এম. মঞ্জুর রশিদ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আইএফবি দেশের বনভূমি, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে আইনের শাসন, সুশাসন ও বৈজ্ঞানিক বন ব্যবস্থাপনার প্রতি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
Popular News
Trending News