• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
মাঠপর্যায়ের বনকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ: উচ্ছেদ অভিযানে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরজমিন নেতৃত্বের দাবি
বন ও বনজ সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে মাঠপর্যায়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হচ্ছেন বনকর্মীরা। একের পর এক ঘটনায় বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রক্ত ঝরলেও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার অভাবকে দায়ী করছেন ক্ষুব্ধ মাঠপর্যায়ের সদস্যরা। বিশেষ করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় বাস্তবতার নিরিখে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরজমিন অনুপস্থিতি মাঠ কর্মীদের চরম প্রাণসংশয় ও চরম চরম নৈরাশ্যের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ডেক্স কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত ও মাঠের বাস্তবতার সংঘাত। বন বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—কার্যক্রম মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত: দপ্তর বা পলিসি কেন্দ্রিক কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং সরাসরি বনাঞ্চল পাহারায় থাকা মাঠ প্রশাসন। ডিএফও এবং এসিএফ পর্যায় থেকে নীতি ও নির্দেশনা আসলেও, বাস্তবে রেঞ্জ অফিসার, বিট অফিসার, ফরেস্ট গার্ড এবং বাগান মালিদের সরাসরি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিযানে নামতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, বনাঞ্চলে কোনো অবৈধ দখল বা অপরাধের তথ্য পেলেই বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা না করে নির্দেশ জারি করা হয়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে নিরাপত্তার হুমকি বা উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে, সেক্ষেত্রে অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে নিরুপায় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নামতে হয়। ফলস্বরূপ—অপ্রস্তুত অবস্থায় হামলা ও সহিংস রক্তপাতের শিকার হতে হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের। 'জীবনের কোনো মূল্য নেই': তরুণ ও সৎ কর্মকর্তাদের তীব্র হতাশা। উচ্ছেদ বা অভিযানে হামলা ও মামলার মুখোমুখি হয়ে বনকর্মীরা হতাহত হলেও পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের থেকে কার্যকর আইনি বা প্রশাসনিক সুরক্ষা না পাওয়ার অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কয়েকজন উদীয়মান কর্মকর্তা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা যে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করছেন, সেই আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন কিংবা নিরাপত্তা বিধান—কোনোটিরই দৃশ্যমান প্রতিফলন নেই। এভাবে চলতে থাকলে সৎ, যোগ্য ও সাহসী কর্মকর্তারা বনভূমি রক্ষায় তাদের স্বাভাবিক আগ্রহ ও উদ্যোগ হারিয়ে ফেলবেন, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের জন্য এক মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। সরাসরি সরজমিন নেতৃত্বের জোর দাবি। উদ্ভূত এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট দাবি তোলা হয়েছে: উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরজমিন উপস্থিতি: যেকোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বা বড় স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ও সহকারী বন সংরক্ষকদের (এসিএফ) সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। অনর্থক চাপ প্রয়োগ বন্ধ: মাঠের বাস্তব নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা না করে কেবল দূরবর্তী দপ্তর থেকে বলপ্রয়োগমূলক উচ্ছেদের নির্দেশ জারি বন্ধ করতে হবে। নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা: পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা সহায়তা ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কোনো অভিযানে মাঠকর্মীদের না পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। মাঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি উপস্থিতি ছাড়া যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অংশ নেওয়া তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বন বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষা ও বনকর্মীদের জীবন বাঁচাতে এ বিষয়ে অবিলম্বে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি।
Popular News
Trending News