• Tuesday, 15 September 2026
Home / Detail News Copy Link
কক্সবাজারে বনকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা: প্রশাসনের ঠুঁটো জগন্নাথ ভূমিকা ও নীতি-নির্ধারকদের ব্যর্থতায় ধ্বংসের মুখে বনাঞ্চল

কক্সবাজারের রামুতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে বনকর্মীদের ওপর একের পর এক নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটলেও কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) দপ্তরের রহস্যজনক নিরবতা ও তোষামোদমূলক নীতি গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। দেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বা পেশাদার বাহিনীতে কোনো সদস্যের ওপর হামলা হলে যেখানে তাৎক্ষণিক স্পেশাল ফোর্স ও অতিরিক্ত জনবল পাঠিয়ে অপরাধীদের গোড়াসহ উপড়ে ফেলা হয়, সেখানে বন বিভাগে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো আইনি বা শক্ত পদক্ষেপ না নিয়ে দায়সারা ভূমিকার কারণে বনদস্যু ও জবরদখলকারীরা দিন দিন আরও দুঃসাহসী হয়ে উঠছে।

মাঠপর্যায়ের কর্মীদের স্পষ্ট বক্তব্য—বন বিভাগের শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের চরম ব্যর্থতা, অদূরদর্শিতা এবং মেরুদণ্ডহীন নেতৃত্বের কারণেই আজ বনাঞ্চল ধ্বংসের প্রান্তে পৌঁছেছে।

রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার অভাব নাকি উর্ধ্বতনদের সদিচ্ছার অভাব?

বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনী বা দপ্তরের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো এলাকায় তাদের সদস্যদের ওপর হামলা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ সহায়তায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয় এবং অপরাধীদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার ও উপযুক্ত জবাব দিয়ে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা জানান দেওয়া হয়।

অথচ বন বিভাগের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও করুণ। রামুতে বনকর্মীদের ওপর নারকীয় হামলার পরও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সব রেঞ্জ ও বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত জনবল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় বহর এনে একটি সমন্বিত উচ্ছেদ ও দমন অভিযান চালানোর নূন্যতম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। হামলার পর নামকাওয়াস্তে একটি মামলা ঠুকে দিয়েই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকে। ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর সাহস পায়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ ও সিএফ দপ্তরের অদূরদর্শিতায় চরম ঝুঁকিতে মাঠকর্মীরা

অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো: আবদুল্লাহ আল মামুনের অদূরদর্শী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, দিকনির্দেশনাহীন নেতৃত্ব এবং পরিস্থিতি অনুধাবনে ব্যর্থতার কারণেই পানেরছড়াসহ পুরো অঞ্চলে বনাঞ্চল দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত জনবল ও যথাযথ ব্যাকআপ ছাড়া মাঠকর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ঠেলে দেওয়া এবং বিপর্যয়ের পর চুপসে যাওয়া—এসবই তাঁর প্রশাসনিক দুর্বলতাকে উন্মোচিত করে।

একইভাবে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) দপ্তর থেকেও যদি পুরো অঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত ফোর্সের সমন্বয় ঘটিয়ে তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো, তবে দখলদার ও অপরাধী চক্র এই দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ পেত না।

"আর কত রক্ত দিলে ঘুম ভাঙবে প্রশাসনের?"—মাঠকর্মীদের প্রশ্ন

বন বিভাগের মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ও নামমাত্র আইনি পদক্ষেপ দিয়ে একটা ডিপার্টমেন্ট চলতে পারে না। একটি হামলার ঘটনার পর পুরো অঞ্চলের জনবল একত্রিত করে যদি চিরুনি অভিযান চালিয়ে বেদখলকৃত বনভূমি একলক্ষে উচ্ছেদ করা হতো, তবে দুষ্কৃতকারীরা আইনের প্রতি বাধ্য হতে বাধ্য হতো। কিন্তু শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্লিপ্ততার কারণে আমাদের ক্রমাগত মার খেতে হচ্ছে।"

তারা কঠোরভাবে দাবি জানান, অন্যান্য অনুকরণীয় পেশাদার বাহিনীর মতো শক্ত জনবল, অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে সরকারের শক্ত আইনি অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এভাবে শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের ব্যর্থতা আর নীরবতা চলতে থাকলে বন রক্ষা তো দূরের কথা, মাঠকর্মীদের প্রাণ বাঁচানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

Popular News
Trending News