• Tuesday, 15 September 2026
Home / Detail News Copy Link
মহেশখালীর মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতায় সন্তোষ প্রকাশ ও চারা রোপণ

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে নির্মিত ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের অন্যতম বৃহৎ ‘মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

আজ রবিবার (০৯ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন এবং পরবর্তীতে প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণ করেন।

শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতায় সন্তোষ ও নিমবৃক্ষ রোপণ

প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত আয়োজিত বিশদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্ল্যান্টের বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা, পরিচালনা দক্ষতা, জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। ব্রিফিংয়ে অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানানো হয় যে, এই মেগা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও স্থানীয় জনবল দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশীয় প্রকৌশলীদের এই স্বনির্ভরতা ও দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁদের উৎসাহিত করেন।

পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার অংশ হিসেবে ব্রিফিং শেষে প্রকল্প এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি স্মারক ‘নিমগাছের চারা’ রোপণ করেন।

মেগা প্রকল্প ও সৌরবিদ্যুৎ এলাকা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ

পরবর্তীতে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রস্তাবিত অবকাঠামো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন:

প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প: পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শন করেন।

ভবিষ্যৎ শিল্প অঞ্চল: একই সাথে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প ও নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন।

কোল জেটি ও গভীর সমুদ্রবন্দর: কয়লা খালাসের আধুনিক কোল জেটি, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলপিজি/এলএনজি টার্মিনাল এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA)-এর সহায়তায় নির্মিত দুটি ৬০০ মেগাওয়াটের এই আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্ল্যান্টটিকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বন্দরভিত্তিক এক সমন্বিত অর্থনৈতিক হাব গড়ে তোলার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গীবৃন্দ

পরিদর্শনকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

পরিদর্শন কার্যসূচি শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন।

Popular News
Trending News