• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
জাতীয় বৃক্ষমেলার শুভ সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণী: মেলা শেষ হলেও গাছ লাগানো ও পরিচর্যার মূল কাজ এখন শুরু— পরিবেশ মন্ত্রী

মাসব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো ‘জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬’। জাতীয় বৃক্ষমেলার শুভ সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি বলেছেন, জাতীয় বৃক্ষমেলা শেষ হলেও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন থেমে যাবে না; বরং মেলা থেকে কেনা চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আসল কাজ এখন থেকেই শুরু হয়েছে।

আজ রোববার (০৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর এই বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

রেকর্ড ১৬ কোটি টাকার চারা বিক্রি ও জনসম্পৃক্ততা

পরিবেশমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার শুভ উদ্বোধন করেছিলেন। "বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের মেলাটি সাধারণ চারা কেনাবেচার গণ্ডি পেরিয়ে এক অভাবনীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

মেলার সফলতার খতিয়ান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান:

অংশগ্রহণকারী নার্সারি: মেলায় মোট ৭৪টি নার্সারি অংশ নেয়।

বিক্রিত চারা সংখ্যা: দেশজুড়ে আগত দর্শনার্থীরা প্রায় ১৬ লাখ গাছের চারা ক্রয় করেন।

মোট আর্থিক লেনদেন: মেলায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা মূল্যের চারা বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, এই রেকর্ড পরিমাণ চারা বিক্রি প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের মাঝে পরিবেশ ভাবনা ও সচেতনতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২৫ কোটি চারা রোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও পরিবেশ লক্ষ্যমাত্রার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পরিবেশমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান (Green Jobs) সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম বছরেই রোপণ করা হবে ৫ কোটি চারা, যার মধ্যে এককভাবে বন অধিদপ্তর ৩.৫ কোটি চারা রোপণ করবে। এই বৃহৎ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৩.৫ লাখের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পাশাপাশি সারাদেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে আরও ২.৫ লাখ মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশের তরুণ, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০ ৩৫ সালের পূর্বেই দেশে ২৭ শতাংশ বৃক্ষাচ্ছাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

জাতীয় পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ

অনুষ্ঠানে প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মোঃ আমীর হোসেন চৌধুরী-র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫’-এর বিজয়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিবর্গ, চিত্রাঙ্কন, রচনা ও গাছ চেনা প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিশু-কিশোর এবং বৃক্ষমেলার সেরা স্টলমালিকদের হাতে সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসেন চৌধুরী আগামী দিনে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে পুরস্কারের পরিধি ও সংখ্যা আরও বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Popular News
Trending News