• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
চকরিয়া-লামা সীমান্তে পাহাড়ের বুকে ক্ষত, শুনবে কে এই কান্না?

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও সরকারি বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপটে পাহাড়ি বনাঞ্চল ধ্বংস এবং অবৈধ ইটভাটা গড়ে তোলার অভিযোগে কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্তবর্তী চকরিয়া-লামা অঞ্চলে তীব্র উদ্বেগ ও জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশের তোয়াক্কা না করে একশ্রেণীর প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় অবাধে পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ঘটনায় জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনি শাস্তির দাবি উঠেছে।

স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী ও জনগণের অভিযোগ, বনাঞ্চল সংলগ্ন চকরিয়া ও লামা সীমান্ত এলাকায় প্রাকৃতিক জলাধার ও ভূ-প্রকৃতি ধ্বংস করে অবৈধ ইটভাটা স্থাপন ও বালি/মাটি তোলার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট।

চকরিয়া ও লামা সীমান্তে দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার ও জনমনে প্রশ্ন

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, চকরিয়ার এক ব্যক্তি রাজনৈতিক দল বিএনপির ওপর মহলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় বিতর্ক তৈরি করছেন এবং এই সিন্ডিকেটকে অবৈধ সুবিধা দিচ্ছেন। পাশাপাশি লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন স্থানীয় নেতার সাথে যোগসাজশে পরিবেশবিধ্বংসী এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে ফাঁসিয়াখালী এলাকার প্রাকৃতিক পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিক সমাজ সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন। স্থানীয় জনগণের স্পষ্ট বার্তা—ফাঁসিয়াখালীর মাটি, পাহাড় এবং বনাঞ্চল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক স্বার্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর হাতিয়ার হতে পারে না। কথিত ‘ফ্যাসিস্ট দোসরদের’ ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা কিংবা দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পাহাড় কাটা স্থানীয় সচেতন সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান

পরিবেশবিদদের মতে, কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী ফাঁসিয়াখালী ও সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলসমূহ বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথ (Corridor) এবং গুরুত্বপূর্ণ সবুজ বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে। এখানে যত্রতত্র পাহাড় কাটা ও ইটভাটা চালু রাখা মানেই আগামীতে ভয়াবহ পাহাড় ধস, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে ডেকে আনা।

এ অবস্থায় সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন:

১. উত্থাপিত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করা।

২. পাহাড় কাটা ও অবৈধ ইটভাটা নির্মাণের সত্যতা পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া ও বন্ধ করা।

৩. রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ফৌজদারি মামলা দায়ের ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

ফাঁসিয়াখালীর পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার জোর দাবি জানিয়েছে পরিবেশ সচেতন আপামর জনসাধারণ।

Popular News
Trending News