• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
মহেশখালীর ধলঘাটায় বনভূমি জবরদখলকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসিএফের কঠোর হুশিয়ারি: যৌথ তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ ও পুলিশ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাশে সুমেঘ উপকূলীয় প্যারাবন ও বনভূমি জবরদখলের অপচেষ্টা রুখে দিতে সরজমিনে কড়া বার্তা দিয়েছে বন বিভাগ ও মহেশখালী থানা পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) সকালে সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এবং গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তার যৌথ নেতৃত্বে জবরদখলে অভিযুক্তদের বাড়িতে বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে সরাসরি আইনি হুশিয়ারি দেওয়া হয়।

অভিযানসূত্রে জানা যায়, ধলঘাটার সাপমারার ডেইল এলাকায় স্থানীয় একশ্রেণীর প্রভাবশালী ভূমিদস্যু দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় বনভূমির জমি অপদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। অপরাধীদের দমন ও বনভূমি জবরদখলমুক্ত রাখতে আজ সকালে এসিএফ শেখ আবুল কালাম আজাদ এবং গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সংগীয় বিট কর্মকর্তা, স্টাফ ও মহেশখালী থানা পুলিশের একটি শক্তিশালী যৌথ দল সাপমারার ডেইল এলাকার অভিযুক্ত ভূমিদস্যুদের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে আসামি তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বাঁধ কেটে জোয়ার-ভাটা নিশ্চিত ও প্যারাবন সৃজনের নির্দেশ

অভিযানকালে কক্সবাজার বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শেখ আবুল কালাম আজাদ জবরদখলকারী ও তাদের পরিবারকে সাফ জানিয়ে দেন যে, সরকারি বনভূমির এক ইঞ্চি জমি দখলের চেষ্টা করা হলেও রেহাই পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, "ভূমিদস্যুতায় জড়িত ব্যক্তিদের বাড়ীতে গিয়ে সরাসরি সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে যদি তারা বনভূমির জমি অপদখল করার সামান্যতম চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে নন-বailable ধারায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেবল মূল দখলদার নয়, প্যারাবন কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদেরও তাদের সহযোগী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা দেওয়া হবে।"

তিনি আরও নির্দেশ দেন যে, প্যারাবনের স্বাভাবিক ইকোসিস্টেম বজায় রাখতে অবৈধভাবে দেওয়া বাঁধ কেটে জোয়ার-ভাটার জলপ্রবাহ চলমান রাখতে হবে। অপদখলকৃত জমি উদ্ধার করে সেখানে দ্রুত নতুন করে প্যারাবন বনায়ন করা হবে, কারণ উপকূল রক্ষা করতে হলে সবুজ বেষ্টনীর বিকল্প নেই।

রেঞ্জ কর্মকর্তা ও ইউপি মেম্বারের বক্তব্য: জিরো টলারেন্স নীতি

অভিযানে গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: মনোয়ার হোসেন কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, "ধলঘাটা এলাকার প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হচ্ছে এই উপকূলীয় প্যারাবন। এই বন সুরক্ষার সাথে পুরো এলাকার মানুষের জানমাল, জীবন-জীবিকা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সামগ্রিক বিষয়টি জড়িত। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসে কাউকে ছাড় দেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। বনভূমি একটি জাতীয় সম্পদ এবং এটি রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।"

অন্যদিকে, ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার হামিদ হোছাইন বন বিভাগের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। তিনি আশ্বাস দেন যে, স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সাথে নিয়ে এলাকায় গণসচেতনতা তৈরি করা হবে। দখল হওয়া সরকারি বনভূমি পুনরুদ্ধার করা এবং উদ্ধারকৃত জমিতে পুনরায় প্যারাবন সৃজনে বন বিভাগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে স্থানীয় ইউপি ও সচেতন জনগণ।

Popular News
Trending News