• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন: বিশ্ব হাতি দিবসে পরিবেশমন্ত্রী

হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে কেবল সরকারি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, বরং স্থানীয় জনগণ, গবেষক, পরিবেশবাদী ও গণমাধ্যমসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এমপি। তিনি উল্লেখ করেন, হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ রক্ষা করা মানে শুধু হাতিকে বাঁচানো নয়, এটি পুরো বন, জীববৈচিত্র্য ও মানবজাতির ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখার অন্যতম নাম।

আজ বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক জাতীয় আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ বছরের বিশ্ব হাতি দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য হলো “Bringing the world together to help elephants” এবং বাংলায় “বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি”।

দেশে হাতির পরিসংখ্যান ও ভবিষ্যৎ জরিপ

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, একসময় বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ হাতি চড়ে বেড়ালেও বর্তমানে নানা সংকটে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্য হাতির সংখ্যা ছিল ২৬৮টি, পরিযায়ী বন্য হাতি ৯৩টি এবং পোষা হাতি ৯৬টি। বন্যপ্রাণীর সঠিক পরিসংখ্যান জানতে ২০২৭ সালের মধ্যে পুনরায় নতুন করে হাতি জরিপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ইতিমধ্যে Bangladesh Elephant Conservation Action Plan (2018–2027) প্রণয়ন করেছে, যার আওতায় ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মানুষ-হাতি সংঘাত নিরসন, ক্ষতিপূরণ ও ইআরটি (ERT)

মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে সরকার নানামুখী মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী জানান, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং ঘরবাড়ি বা ফসলের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত নিহত ৩২২টি পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৩,২১৫টি পরিবারকে মোট ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পরিশোধে বন অধিদপ্তরকে বিশেষ নির্দেশ দেন।

এছাড়া সংঘাত নিরসনে স্থানীয় অধিবাসীদের নিয়ে গঠিত ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ERT) প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তাঁর এলাকার লোকালয়ে হাতির আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. মোঃ সাইমুম পারভেজ বলেন, "মানুষের নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই জীববৈচিত্র্য ও হাতি রক্ষা করা জরুরি।"

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম হাতি সংরক্ষণে সরকারি তহবিলের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী-র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ আব্দুল মোতালেব তথ্যপত্র উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পরিবেশবাদীরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular News
Trending News