• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
কটা মারা এলাকায় অবৈধ ঘর উচ্ছেদ ও বনভূমি উদ্ধার

টাঙ্গাইল বন বিভাগের বাঁশতৈল রেঞ্জাধীন গায়রাবেতীল বিটের অন্তর্গত ‘কটা মারা’ এলাকায় একদল প্রভাবশালী চক্র কর্তৃক রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বসতঘর নির্মাণ করে সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখলের অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বন বিভাগ। জবরদখল প্রতিরোধে আজ এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বনভূমির নিয়ন্ত্রণ উদ্ধার করা হয়।

অভিযানটি টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জনাব রানা দেব-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। মাঠপর্যায়ে সমন্বিত ও কার্যকর অভিযানে নেতৃত্ব দেন প্রশিক্ষণার্থী সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা জনাব অমি আক্তার এবং সহকারী বন সংরক্ষক ও সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা জনাব আব্দুর রশিদ।

৪ বিটের যৌথ টিম ও জবরদখল উচ্ছেদ

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গায়রাবেতীলের কটা মারা এলাকার সংরক্ষিত বনভূমিতে কিছু অসাধু লোক বেআইনিভাবে বাঁশ, টিন ও কাঠ দিয়ে ঘর তৈরি করে জমি অপদখল করার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই এসিএফ জনাব রানা দেব-এর দিকনির্দেশনায় বাঁশতৈল রেঞ্জের আওতায় থাকা ৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিটের কর্মকর্তা ও কর্মীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ উদ্ধার টিম গঠন করা হয়।

অভিযানে হাঁটুভাঙা, নলুয়া, বংশীনগর ও পাথরঘাটা বিট-এর সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা, বনপ্রহরী ও স্টাফরা একযোগে অংশগ্রহণ করেন। বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যৌথ উপস্থিতিতে জবরদখলকারীরা স্থান ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে উচ্ছেদ টিম অবৈধভাবে নির্মিত ঘর ও কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে জমি দখলমুক্ত করে।

জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

অভিযান শেষে বন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা করা বন বিভাগের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। বনের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডেও কাউকে অবৈধ ঘরবাড়ি তৈরি কিংবা দখলবাজি করতে দেওয়া হবে না।

এ ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আসামিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। বনাঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমানা দখল এবং সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অপরাধে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে বন আইন ১৯২৭ (Forest Act, 1927)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনি ব্যবস্থা ও বন মামলা (POR) দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বনাঞ্চল ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় এমন জিরো টলারেন্স অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

Popular News
Trending News