• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
স্মৃতির জলযান নিলামে বিক্রি: অবসান ঘটল সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী ‘বন কন্যা’ ও ‘বন রানী’র শতাব্দীপ্রাচীন অধ্যায়ের

সুন্দরবনের শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রশাসনিক স্মৃতির নীরব সাক্ষী রাজকীয় দুই জলযান ‘এম এল বন কন্যা’ ও ‘এম এল বন রানী’ অবশেষে নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিনের ব্যবহারে অচল হয়ে পড়া ঐতিহাসিক এই জলযান দুটির মালিকানা ৪৭ লাখ ২২ হাজার ১০০ টাকায় ছেড়ে দিয়েছে বন বিভাগ।

ব্রিটিশ আমলের রাজকীয় স্মারক ও নির্মাণশৈলী

বন বিভাগের ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে বৃহত্তর সুন্দরবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের সুবিধার্থে কলকাতার খিদিরপুর ডকইয়ার্ডে বিলাসবহুল এই জলযান দুটি তৈরি করা হয়েছিল।

এম এল বন কন্যা: ১৯০২ সালে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। জলযানটির বর্তমান বয়স ১২৪ বছর।

এম এল বন রানী: ১৯০৮ সালে প্রায় ৫২ হাজার ৯৪৭ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়। এর বর্তমান বয়স ১১৮ বছর।

বার্মিজ সেগুন কাঠের ওপর নান্দনিক ও অভিজাত কারুকাজে সজ্জিত এই স্টিমার দুটিতে ভ্রমণ করেছেন দেশ-বিদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব। বনের নৌ-ইতিহাসে ঔপনিবেশিক স্মৃতির এক অমূল্য প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এই দুই জলযান।

সংস্কারের ঘাটতি ও অচল অবস্থা

বন রানী ও বন কন্যার সর্বশেষ চালক জাফর মাস্টার ও লস্কর মো. হারুন মোল্লার মতে, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে সার্ভিস দেওয়া এই জলযান দুটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন।

তবে উপযুক্ত পরিচর্যা ও নিয়মিত সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিনের ব্যবহারজনিত ক্ষয়ক্ষতিতে জলযান দুটি একপর্যায়ে সচলতা হারায়। সর্বশেষ ২০১৬ সাল পর্যন্ত জাহাজ দুটি চালু ছিল। পরবর্তীতে খুলনার চানমারী ও ফরেস্ট ঘাট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হলে নোনা জল ও আবহাওয়ার কারণে এগুলো দিন দিন ক্ষয় হতে থাকে। সংরক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় শেষ পর্যন্ত এগুলো নিলামে বিক্রি করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞানসম্মত জাদুঘর বা পর্যটনকেন্দ্রে ঠাঁই পেলে শতবর্ষের এই রূপকথা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা যেত বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ঐতিহ্যপ্রেমীরা।

স্মৃতি রক্ষায় রেপ্লিকা তৈরির উদ্যোগ

ঐতিহাসিক রূপরেখা যেন পুরোপুরি মুছে না যায়, সে জন্য বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ জানান—‘বন রানী’ ও ‘বন কন্যা’র অনন্য ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। আগামী প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাসের ঐতিহ্য তুলে ধরতে জলযান দুটির আদলে প্রতিকৃতি বা রেপ্লিকা (Replica) তৈরির একটি বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় বাজেট ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Popular News
Trending News