• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
কক্সবাজার পৌরসভার ফুটপাতে প্রকাশ্যে অবৈধ বন্যপাখি বিক্রি: বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের অভিযান দাবি

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রাণকেন্দ্রে জুম্মার নামাজের পর নিয়মিতভাবে ফুটপাতে খাঁচাবন্দি দেশীয় বন্যপাখি কেনাবেচা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আইনের চোখে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় হলেও প্রতি শুক্রবার প্রকাশ্যে এসব বিপন্ন ও দেশীয় প্রজাতির পাখি বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি মুকুট চৌধুরী নামের এক এনজিও কর্মকর্তা ও পরিবেশ সচেতন নাগরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কক্সবাজার বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে অনতিবিলম্ব আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানান।

ফুটপাতে অবৈধ পাখি বিক্রির চিত্র

তাঁর দেওয়া তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টের ফুটপাতে প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর অন্যান্য পোষা পাখির আড়ালে নানা প্রজাতির দেশীয় বন্যপাখি নিয়ে বসেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। সেখানে খাঁচাবন্দি অবস্থায় শালিক, টিয়ে, মুনিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখি প্রকাশ্যে কেনাবেচা হয়। দেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন নগরীর মূল কেন্দ্রে প্রতি সপ্তাহে এমন দৃশ্য বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় এক বড় ধরণের অন্তরায়।

আইন লঙ্ঘন ও সুনির্দিষ্ট দাবি

উল্লেখ্য, ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২’ অনুযায়ী যেকোনো দেশীয় বন্যপাখি ধরা, কেনাবেচা করা, পরিবহন করা বা খাঁচায় স্থায়ীভাবে বন্দী রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

এ অবস্থায় পরিবেশ সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পক্ষে বন বিভাগ ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কাছে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:

১. নিয়মিত মোবাইল কোর্ট: কক্সবাজার পৌরসভার ফুটপাতে শুক্রবারগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা।

২. আইনি দৃষ্টান্ত: অসাধু পাখি শিকারী ও অবৈধ বিক্রেতাদের গ্রেফতার করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

৩. মুক্ত আকাশে অবমুক্তকরণ: বন্যপাখি জব্দ করে দ্রুত তাদের উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সর্বসাধারণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা।

পরিবেশ গবেষকরা মনে করেন, স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ সমন্বিত অভিযান শুরু করলে অপরাধী চক্র পিছু হটতে বাধ্য হবে। বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় পর্যটন নগরীতে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

Popular News
Trending News