• Wednesday, 16 September 2026
Home / Detail News Copy Link
গাছ কেটে পাখির বাসা, ডিম ও ছানা নষ্টের মামলায় গ্রেপ্তার ১: বগুড়ার শেরপুরে বন বিভাগের তৎপরতা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামনগর গ্রামে গাছ কেটে দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির বাসা, ডিম এবং ছানা ধ্বংসের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আজাহার আলী (৬৫) নামে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ রবিবার (১৬ আগস্ট ২০২৬) অভিযুক্ত আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়।

জঙ্গলে পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি

শেরপুর থানা পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রামনগর গ্রামে আজাহার আলীর বসতবাড়িতে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি আজাহার বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে পাশের জঙ্গলে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা গভীর জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী বিধ্বংসী ঘটনা

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আসামি আজাহার আলী নিজ মালিকানাধীন জমির সাতটি জলপাই ও পীতরাজ গাছ কেটে ফেলেন। উক্ত বৃক্ষগুলোতে পরিবেশবান্ধব ও পরিযায়ী শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির বন্যপাখি বাসা বেঁধেছিল এবং তাতে ডিম ও ছোট ছোট ছানা ছিল।

অনুমতি ও সংবেদনশীলতা ছাড়া হঠাৎ গাছগুলো কেটে ফেলায় পাখির বাসাগুলো মাটিতে আছড়ে পড়ে। এতে বহু পাখির ডিম ভেঙে যায় এবং অসংখ্য অবুঝ পাখির ছানা নির্মমভাবে মারা যায়।

বন বিভাগের এজাহার ও আইনি পদক্ষেপ

পাখির বাসা ও ছানা ধ্বংসের এই নৃশংস খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগ তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বন বিভাগের শেরপুর রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন পারভেজ বাদী হয়ে শেরপুর থানায় ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২’-এর আওতায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আজাহার আলীকে মূল আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।

বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও প্রজনন ক্ষেত্র বিনষ্ট করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।

Popular News
Trending News